মিসকীনকে খাদ্য দান করা


 ‎


কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বোধ হয় তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হাঁ, ইয়া আল্লাহ্‌র রাসূল! এরপর আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি মাথা মুণ্ডন করে ফেল এবং তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  আহার করাও কিংবা একটা বক্‌রী কুরবাণী কর।  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮১৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মা‘কিল (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরা (রাঃ) -এর পাশে বসে তাঁকে ফিদয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এ আয়াত বিশেষভাবে আমার সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে। তবে এ হুকুম সাধারণভাবে তোমাদের সকলের জন্যই। আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে আমাকে নিয়ে যাওয়া হল। তখন আমার চেহারায় উকুন বেয়ে পড়ছে। তিনি বললেনঃ তোমার কষ্ট বা পীড়া যে পর্যায়ে পৌঁছেছে দেখতে পাচ্ছি, আমার তো আগে এ ধারণা ছিল না। তুমি কি একটি বক্‌রীর ব্যবস্থা করতে পারবে? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  অর্ধ সা‘ করে খাওয়াও।  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৮১৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কী? সে বলল, আমি রমাযানে দিনের বেলা স্ত্রী সম্ভোগ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এক নাগাড়ে দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতোমধ্যে এক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে আসল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর মাপার পাত্র। তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সদকা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাদের চেয়ে বেশী অভাবী এমন কাউকে সদকা করে দিব? যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! কঙ্করময় মরুভূমির মাঝে (অর্থাৎ মদীনায়) আমাদের চেয়ে অভাবী কোন ঘর নেই। শেষে তিনি বললেন, যাও তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৬০০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে এমন অবস্থায় দেখলেন যে, উকুন তার মুখমণ্ডলে ঝরে পড়ছে। তখন তিনি বললেন, কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন যখন তিনি হুদাইবিয়াহ্‌তে অবস্থান করছিলেন। তখন সাহাবীগণ মাক্কাহ প্রবেশ করার জন্য খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। হুদাইবিয়াহ্‌তেই তাদের হালাল হতে হবে এ কথা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের কাছে বর্ণনা করেননি। তাই আল্লাহ ফিদইয়ার বিধান অবতীর্ণ করলেন। এ কারণেই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ছয়জন  মিসকীনকে  এক ফারাক (প্রায় বারো সের) খাদ্য খাওয়ানোর অথবা একটি বাক্‌রী কুরবানী করার অথবা তিন দিন সওম পালনের নির্দেশ দিলেন। [১৮১৪] (আ.প্র. ৩৮৪৫, ই.ফা. ৩৮৪৮)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪১৫৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, হুদাইবিয়াহ্‌র সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে আসলেন। সে সময় আমার মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার মাথার উকুন তোমাকে কি কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তুমি মাথা ন্যাঁড়া করে ফেল। আর এ জন্য তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  খাদ্য খাওয়াও অথবা একটি পশু কুরবানী কর। আইয়ুব (রহঃ) বলেন, এগুলোর কোন্‌টি প্রথমে বলেছিলেন তা আমি জানি না। [১৮১৪] (আ.প্র. ৩৮৭০, ই.ফা. ৩৮৭৩)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪১৯০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


    তিনি বলেন,   وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ   এ আয়াত অবতীর্ণ হল এবং যারা সওম পালনের সামর্থ্য রাখে তারা একজন  মিসকীনকে  ফিদ্য়া স্বরূপ আহার্য দান করবে। তখন যে ইচ্ছা সওম ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদ্য়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়।

আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইয়াযীদের পূর্বে বুকায়র মারা যান। [মুসলিম ১৩/২৫, হাঃ ১১৪৫] (আ.প্র. ৪১৪৯, ই.ফা. ৪১৫২)    


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৫০৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক লোক এলো এবং বললো আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কেন? সে বললোঃ রমযান মাসে আমি (দিনে) স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ একটি দাস মুক্ত করে দাও। সে বললোঃ আমার কাছে কিছুই নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে একাধারে দু’মাস সওম পালন কর। সে বললোঃ সে ক্ষমতাও আমার নেই। তিনি বলেনঃ তবে ষাটজন  মিসকীনকে  খাদ্য খাওয়াও। সে বললঃ সে সামর্থ্যও আমার নেই। এ সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক বস্তা খেজুর এল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বললোঃ আমি এখানে। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এগুলো সদকা কর। সে বললোঃ হে আল্লাহর রসূল! আমার চেয়ে অভাবগ্রস্তকে দিব। সেই সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, মদীনার প্রস্তরময় দু’পার্শ্বের মধ্যে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কোন পরিবার নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন এমন কি তাঁর চোয়ালের দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল এবং বললেনঃ তবে তোমরাই তা নিয়ে যাও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৬৪)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৬৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) ততক্ষণ পর্যন্ত আহার করতেন না যতক্ষণ না তাঁর সঙ্গের খাওয়ার জন্য একজন  মিসকীনকে  ডেকে আনা হতো। একদা আমি তাঁর সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসলাম। লোকটি খুব অধিক আহার করল। তিনি বললেনঃ নাফি’! এমন মানুষ কে আমার কাছে নিয়ে আসবে না। আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, মু’মিন এক পেটে খায়। আর কাফির সাত পেটে খায়।[৫৩৯৪; মুসলিম ৩৬/৩৪, হাঃ ২০৬০, আহমাদ ১৫২২০] আধুনিক প্রকাশনী- ৪৯৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৮৮৮)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৩৯৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  যে, একবার এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমাতে এসে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ ‘ওয়াইহাকা’ (আফসোস তোমার জন্য) এরপর সে বললঃ আমি রমাযানের মধ্যেই দিনের বেলায় স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ একটা গোলাম আযাদ করে দাও। সে বললঃ আমার কাছে তা নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি এক নাগাড়ে দু’মাস সাওম পালন কর। সে বললঃ আমি এতেও অপারগ। তিনি বললেনঃ তবে তুমি ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াও। লোকটি বললঃ আমি এটাও পারি না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তখন তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং সদাকাহ করে দাও। সে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তা কি আমার পরিবার ছাড়া অন্যকে দেব? সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ। মাদীনাহ্‌র উভয় প্রান্তের মধ্যস্থলে আমার চেয়ে অভাবী আর কেউ নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন, তাঁর পার্শ্বের ছেদন দন্ত পর্যন্ত প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ তবে তুমিই নিয়ে যাও। (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৭২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৬২০)

 যুহরি হতে ইউনুস এরকমই বর্ণনা করেছেন। যুহরি হতে ‘আবদুর রহমান বিন খালিদ ‘ওয়াইলাকা’ বলেছেন।  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬১৬৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  যে, এক লোক রমযানে আপন স্ত্রীর সাথে যৌন সংযোগ করে ফেললো। তারপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে ফতোয়া জানতে চাইল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একটি গোলাম আযাদ করার সামর্থ্য তোমার আছে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন  মিসকীনকে  খাদ্য খাওয়াও।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৪)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৮২১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আজ তোমাদের মধ্যে কে রোযা রেখেছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাযার সাথে গেছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে  মিসকীনকে  খাবার দিয়েছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেছে? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তির মধ্যে এসব কাজের সমাবেশ ঘটে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (ই.ফা. ২২৪৩, ই.সে.২২৪৪)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৬৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  বর্ণিত। এক ব্যক্তি রমাযান মাসে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রশ্ন করল। তখন তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি? সে বলল, না। তিনি আবার বললেন, তুমি দু’মাস সওম পালন করতে পারবে কি? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তাহলে ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করাও। (ই.ফা. ২৪৬৪, ই.সে. ২৪৬৩)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৮৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভেঙ্গে ফেলার কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলেন, হয় তো সে একটি গোলাম আযাদ করবে অথবা দু’মাস সওম পালন করবে অথবা ষাটজন  মিসকীনকে  খানা খাওয়াবে। (ই.ফা. ২৪৬৬, ই.সে. ২৪৬৫)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৮৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি বলরেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে? সে বলল, আমি রমাযানে সওমরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি বললেন, তোমার কোন ক্রীতদাস আছে কি যাকে তুমি আযাদ করে দিতে পার? সে বলল, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি ক্রমাগত দু’মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াতে পারবে কি? সে বলল, না। তারপর সে বসে গেল। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হ’ল। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো সদাক্বাহ করে দাও। তখন সে  বলল, আমার চেয়েও অভাবী লোককে সদাক্বাহ করে দিব? (মাদীনার)  দু’টি কংকরময় ভূমির মধ্যস্থিত স্থানে আমার পরিবারের চেয়ে অভাবী আর একটিও নেই। এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ল। তখন তিনি বললেন, তাহলে যাও এবং তোমার পরিবারকে খেতে দাও। (ই.ফা. ২৪৬২, ই.সে. ২৪৬১)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৮৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, “যারা সিয়াম পালন করতে সক্ষম (অথচ সিয়াম পালন করতে চায় না) তারা ফিদইয়াহ্ হিসেবে একজন  মিসকীনকে  খাদ্য দান করবে” যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হল, কেউ যদি রামাদানে সিয়াম পালন করতে না চাইতো সে সিয়াম ভাঙ্গত এবং তার পরিবর্তে ফিদইয়াহ্ আদায় করে দিত। অতঃপর এর পরবর্তি আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তা পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুমকে মানসূখ (রহিত) করে দিল।” (ই.ফা. ২৫৫২, ই.সে. ২৫৫১)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৭৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমাহ্ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে রমাযান মাসে আমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা হত সিয়াম পালন করত আর যে চাইত ভঙ্গ করত এবং এর বিনিময়ে ফিদইয়াহ্ হিসেবে একজন  মিসকীনকে  খাদ্য দান করত। অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল, “কাজেই আজ হতে যে ব্যক্তিই এ মাসের সম্মুখিন হবে তার জন্য এ পূর্ণ মাসের সিয়াম পালন করা একান্ত কর্তব্য।” (ই.ফা. ২৫৫৩, ই.সে. ২৫৫২)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৭৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ (আরবী আছে) (অর্থঃ আর যাদের সাওম (রোযা) পালন করার সামর্থ্য আছে তারা ইচ্ছা করলে সাওম (রোযা) ভঙ্গ করে একজন  মিসকীনকে  তার বিনিময়ে খাদ্য দান করতে পারবে)-এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছেঃ যাদের সাওম (রোযা) করতে খুব বেশী কষ্ট হয় তারা প্রত্যেকটি সাওমের পরিবরর্তে ফিদয়া স্বরূপ একজন  মিসকীনকে  খাদ্য দান করবে। আর যে ব্যক্তি আরো অধিক দান করবে তা তার জন্য উত্তম হবে-এই আয়াতের হুকুম রহিত হয়নি আর যদি তোমরা সাওম (রোযা) পালন কর তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম। অত্র আয়াতে সাওম (রোযা) পালনে সামর্থ্যবানদের অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বরং অক্ষম এবং এমন অসুস্হ ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যাদের রোগ মুক্তির আশা নেই।  


সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৩১৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমান ইব্‌ন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,  মিসকীনকে  দান করার মধ্যে শুধু সাদাকা (র সওয়াব রয়েছে) আর আত্নীয়-স্বজনকে দান করা দুটি (সওয়াব রয়েছে) দান করা (র সওয়াব) এবং আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (র সওয়াব)।  


সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৫৮২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবন উজারা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেনঃ আমার ইহরাম বাঁধার পর আমার মাথার উকুন বেড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এই সংবাদ পৌঁছলে তিনি আমার নিকট আগমন করলেন। তখন আমি আমার সাথীদের জন্য রান্না করছিলাম। তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা আমার মাথা র্স্পশ করে বললেনঃ উঠ, ইহা মুন্ডন করে ফেল এবং ছয়জন  মিসকীনকে  সাদাকা দাও।  


সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৮৫২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবন উজারা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি মুহরিম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলেন। তখন তার মাথার উকুন তাকে কষ্ট দিতেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  তাঁকে মাথা মুন্ডন করতে আদেশ করলেন এবং বললেনঃ তিন দিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  দুই দুই মুদ্দ(সের) করে খাওয়ার (খাদ্য প্রদান করে) অথবা একটি বকরী (সাদকারূপে) যবাই কর। এর যে কোন একটি আদায় করলেই তোমার জন্য তা যথেষ্ট হবে।  


সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৮৫১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাকে বললেনঃ তোমর মাথার উকুন তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ    মাথা মুণ্ডন করে ফেলো, অতঃপর একটি বকরী কুরবানী করো অথবা তিন দিন সাওম পালন করো অথবা তিন সা’ খেজুর ছয়জন  মিসকীনকে  বিতরণ করো। [১৮৫৬]  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৮৫৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন : তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বললেন, না। তিনি বললেনঃ তাহলে তিন দিন সওম পালন করো অথবা তিন সা‘ খেজুর ছয়জন  মিসকীনকে  বিতরণ করো, যেন প্রত্যেক দু’জন মিসকীন এক সা‘ করে পায়। [১৮৫৮]  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৮৫৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালামাহ ইবনু সাখর আল-বায়দী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি নারীদের প্রতি এতো অধিক আসক্ত প্রবণ ব্যক্তি অন্য কেউ এরূপ আসক্ত নয়। যখন রমাযান মাস সমাগত হলো তখন আমার ভয় হলো যে, হয়তো আমি ভোর বেলায়ও স্ত্রীসঙ্গমে লিপ্ত থাকবো। তাই রমাযান মাস অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত আমি তার সাথে ‘যিহার’ করি। এক রাতে সে আমার খেদমত করছিলো। এমন সময় তার শরীরের এমন কিছু আমার সামনে খুলে গেলো যে, আমি স্থির থাকতে পারলাম না। আমি সহবাসে লিপ্ত হয়ে পড়লাম। ভোর হলে আমি আমার বংশের লোকদের কাছে গিয়ে তাদেরকে আমার ঘটনা জানিয়ে বললাম, তোমরা আমার সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে চলো। তারা বললো, না আল্লাহর শপথ! আমরা যাবো না। কাজেই আমি একাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটি জানালাম। তিনি বললেনঃ এরূপ কাণ্ড কি তুমি করেছো হে সালামাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমিই এরূপ করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! এইভাবে দুইবার বলি। আর আপনি মহান আল্লাহর বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্যশীল হবো। তিনি বললেনঃ তুমি একটি দাস মু্ক্ত করো। আমি বলি, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ! আমার কোন দাস নেই, আমার নিজেকে ছাড়া। এ কথা বলে আমি আমার গর্দানের উপর হাত রাখি। তিনি বললেনঃ তাহলে একাধারে দু’মাস সওম পালন করো। সে বললো, সওম পালনের কারণেই তো এ সমস্যায় পড়েছি। তিনি বললেনঃ ‘এক ওয়াসক’ খেজুর যাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াও। সে বললো, সেই সত্ত্বার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! গত রাত আমি এবং আমার পরিবার উপোস কাটিয়েছি। কারণ আমাদের কাছে খাবার নেই। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি বনু যুরাইকের যাকাত আদায়কারীর নিকট গিয়ে বলো, সে যেন তোমাকে তাদের সদাক্বাহ দেয়। তা থেকে ‘এক ওয়াসক’ খেজুর ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াবে। আর যা বাকী থাকবে তা তুমি ও তোমার পরিবার খাবে। অতঃপর আমি আমার কওমের লোকদের নিকট ফিরে এসে বলি, আমি তোমাদের কাছে পেয়েছি সংকীর্ণতা ও মন্দ ব্যবহার, আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পেয়েছি উদারতা ও উত্তম ব্যবহার। তিনি আমাকে তোমাদের সদাক্বাহ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। ইবনুল ‘আলা অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, ‘বায়াদাহ’ বনু যুরাইকের একটি শাখা।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২২১৩

হাদিসের মান: হাসান হাদিস


খুওয়াইলাহ বিনতু মালিক ইবনু সা’লাবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমার সাথে আমার স্বামী আওস ইবনুস সামিত (রাঃ) যিহার করলেন। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে অভিযোগ করলাম। তিনি আমার স্বামীর পক্ষ হতে আমার সাথে বিতর্ক করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহকে ভয় করো, সে তো তোমার চাচার ছেলে। মহিলাটি বলেন, আমি সেখান থেকে চলে না আসতেই কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “নিশ্চয় আল্লাহ ঐ মহিলার কথা শুনতে পেয়েছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বিতর্ক করছে” (সূরাহ আল-মুজাদালাঃ ১) এখান থেকে কাফফারাহ পর্যন্ত অবতীর্ণ হলো। অতঃপর তিনি বললেনঃ সে একটি দাস মুক্ত করবে। মহিলাটি বলেন, তার সে সামর্থ নেই। তিনি বললেনঃ সে একাধারে দু’মাস সওম পালন করবে। মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! সে খুবই বৃদ্ধ, সাওম পালন করতে অক্ষম। তিনি বললেনঃ তবে ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করাবে। মহিলাটি বললেন, সদাক্বাহ করার মত পয়সা তার নেই। মহিলাটি বলেন, এ সময় সেখানে এক ঝুড়ি খুরমা আসলো। তখন আমি (মহিলা) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ পরিমাণ আর এক ঝুড়ি খুরমা দিয়ে আমি তাকে সহযোগীতা করবো। তিনি বললেনঃ তুমি ভালই বলেছো। তুমি এর দ্বারা তার পক্ষ হতে ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াও এবং তোমার চাচাতো ভাইয়ের কাছে ফিরে যাও। ইয়াহইয়া ইবনু আদাম বলেন, ষাট সা’তে এক ‘আরাক্ব হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মহিলাটি তার স্বামীর নির্দেশ ছাড়াই তার পক্ষ হতে কাফফারাহ আদায় করেছে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আওস (রাঃ) ছিলেন ‘উবাদাহ ইবনুল সামিত (রাঃ) এর ভাই। [২২১৪]


হাসান, তার এ কথাটি  বাদেঃ “ষাট সা’তে এক ‘আরাক্ব।” ইরওয়া (২০৮৭)  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২২১৪

হাদিসের মান: হাসান হাদিস


ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াযীর আল-মিসরী হতে ‘উবাদাহ ইবনুস সামিতের ভাই আওস (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিতঃ


  ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়ানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ব্যক্তিকে পনের সা’ যব দিলেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ‘আতা’র সাথে আওসের সাক্ষাৎ ঘটেনি। কারণ ‘আওস’ (রাঃ) বদরী সাহাবী, যিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। সুতরাং হাদীসটি মুরসাল।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২২১৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ)–এর আযাদকৄত গোলাম ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, (আল্লাহর বাণী) “যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন  মিসকীনকে  খাদ্য দিবে” (সূরাহ আল-বাক্বারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদের কারোর ইচ্ছে হলে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতে চাইলে তাই করতো। অতঃপর পরবর্তী আয়াত (২: ১৮৫ ) দ্বারা উপরের প্রথম বিধানটি মানসূখ হয়ে যায়।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩১৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  “যারা সামর্থবান (কিন্তু সওম পালনে অক্ষম) তারা এর পরিবর্তে ফিদ্ইয়া হিসেবে একজন  মিসকীনকে  খাদ্য দিবে” (সূরাহ আল-বাক্বারাহঃ ১৮৪) এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর যে লোক প্রতিদিন খাওয়াতে সক্ষম ছিলো সে সওম না রেখে ফিদ্ইয়া দিতো, এভাবে তার সিয়াম পূর্ণ হতো। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “আর যে ব্যক্তি অধিক সদাক্বাহ করবে তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা সওম পালন করো তবে তা অধিক উত্তম”। আল্লাহ আরো বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যারা এ মাসে উপনীত হবে তারা সওম পালন করবে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে”।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩১৬

হাদিসের মান: হাসান হাদিস


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, আমি ধ্বংস হয়েছি। তিনি বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? সে বললো, আমি সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ  তোমার কাছে আযাদ করার মত কোন গোলাম আছে কি? সে বললো, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি একাটানা দুই মাস সওম পালন করতে পারবে? সে বললো, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে কি? সে বললো, না।  তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট নিয়ে এলে তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো সদাক্বাহ করে দাও। লোকটি বললো, হে আল্লহর রাসূল! মাদীনাহর দুই পার্শ্বে আমাদের চাইতে অভাবী পরিবার আর নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর সামনের দাঁতগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি বললেনঃ তাহলে এগুলো তোমার পরিবারের লোকদের খাওয়াও। মুসাদ্দাসের বর্ণনায় রয়েছে তাঁর দাঁতগুলো প্রকাশ পেলো।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৯০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক ব্যক্তি রমাযানের সওম ভঙ্গ করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে একটি গোলাম আযাদ করার অথবা একটানা দুই মাস সওম পালন অথবা ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করানোর নির্দেশ দেন। ফলে লোকটি বলে, আমি এর কোনটিই করতে সক্ষম নই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর এলে তিনি তাকে বলেনঃ এগুলো নিয়ে গিয়ে সদাক্বাহ করে দাও। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চেয়ে অধিক গরীব লোক নেই। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনভাবে হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি লোকটিকে বললেনঃ তাহলে এগুলো তুমি খাও। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ হতে আয-যুহরীর মাধমে মালিকের শব্দে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সওম ভঙ্গ করে। তিনি তাতে বলেছেনঃ ‘অথবা একটি গোলাম আযাদ করো অথবা দুই মাস সওম রাখো কিংবা ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করাও’।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৯২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রমাযান মাসে অসুস্থ হয়ে রমাযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত সুস্থ না হয় এবং এ অবস্থায়ই মারা যায় তাহলে তার পক্ষ হতে  মিসকীনকে  আহার করাতে হবে। আর তার উপর মানতের সওম থকলে তার পক্ষ হতে অভিভাবক তার ক্বাযা আদায় করবে।  


সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৪০১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমিতো ধংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করল? সে বলল, আমি রোযা থাকাবস্থায় স্ত্রীসংগম করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি একটি গোলাম মুক্ত করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি একসাথে দু’মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি বস। লোকটি বসে রয়ল। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক (বড়) ঝুড়িভর্তি খেজুর আসলো। তিনি তাকে বললেনঃ এগুলো নিয়ে দান-খায়রাত করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে দরিদ্র মাদীনার পাথরময় দুপ্রান্তের মাঝে আর কেউ নেই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, (তার কথায়) তিনি হেসে দিলেন, এমনকি তাঁর চোয়ালের দাঁত দেখা গেলো। তিনি বললেনঃ এগুলো নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও।


   -সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১৬৭১), বুখারী, মুসলিম  


ফুটনোট:   ইবনু উমার, আইশা ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আলিমগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, রমযান মাসে কোন লোক স্বেচ্ছায় স্ত্রীসংগম দ্বারা রোযা ভেঙ্গে ফেললে প্রত্যেকটি রোযার জন্য তাকে একটি করে দাস মুক্ত করতে হবে অথবা দু’মাস একটানা রোযা পালন করতে হবে অথবা ষাটজন গরীব লোককে খাওয়াতে হবে। কিন্তু পানাহারের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় কোন লোক রোযা ভেঙ্গে ফেললে তার কাফ্‌ফারা প্রসঙ্গে আলিমগণের মধ্যে মতবিরোধ আছে। একদল আলিম বলেন, তাকে রোযার কাযা ও কাফ্‌ফারা দুটোই আদায় করতে হবে। পানাহারকে তাঁরা স্ত্রীসংগমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এরকমই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাকের। অন্য একদল আলিম বলেন, তাকে কাযা রোযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফ্‌ফারা আদায় করতে হবে না। কারণ, স্ত্রীসংগমের ক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কাফ্‌ফারার উল্লেখ আছে, পানাহারের ক্ষেত্রে এর কোন উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রীসংগমের সাথে পানাহারের সাদৃশ্য নেই। এরকম অভিমত ইমাম শাফিঈ ও আহ্‌মাদ (রহঃ)-এর। ইমাম শাফিঈ বলেন, যে লোক রোযা ভেঙ্গে ফেলেছিলো সে লোককে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত খেজুর দান করেছিলেন। তাঁর উক্তি “নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তা খাওয়াও” বাক্যাংশ বিভিন্ন অর্থ বহন করে। এমনও হতে পারে যে, যে ব্যক্তির সামর্থ আছে তাকে কাফ্‌ফারা আদায় করতে হয়। কিন্তু এ লোকটি কাফ্‌ফারা আদায় করার মত সামর্থবান ছিল না। পরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কিছু দান করে তার মালিক বানিয়ে দিলে সে বলল, আমাদের চেয়ে বেশি অভাবগ্রস্ত এ এলাকায় অন্য কোন লোক নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “নিয়ে নাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে খাওয়াও”। কেননা, কাফ্‌ফারা বাধ্যতামুলক হয় জীবনধারণের কোন অতিরিক্ত সম্পদ থাকলেই। এরকম অবস্থাসম্পন্ন লোক সম্বন্ধে ইমাম শাফিঈর অভিমত হচ্ছে, সে লোক ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফ্‌ফারা তার দায়িত্বে ঋণ হিসাবে থেকে যাবে। সে যে সময়ে তা দিতে সমর্থ হবে সে সময়েই কাফ্‌ফারা আদায় করতে হবে।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৭২৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু উজরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  হুদাইবিয়াতে তিনি ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে এবং মক্কায় আসার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় তিনি হাড়ির নীচে (চুলায়) আগুন জ্বালাচ্ছিলেন, আর তার চেহারায় উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ তোমাকে কি তোমার এই পোকাগুলো কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে মাথা মুণ্ডন কর এবং এক ফারাক" খাদ্যদ্রব্য ছয়জন  মিসকীনকে  দান কর (তিন সা"-তে এক ফারাক) অথবা তিনদিন রোযা রাখ অথবা একটি পশু কুরবানী কর। ইবনু আবী নাজীহ-এর বর্ণনায় আছেঃ অথবা একটি বকরী যবাহ কর।


-সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০৭৯, ৩০৮০), নাসা-ঈ।  


ফুটনোট:   এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। যদি কোন মুহরিম লোক মাথা মুণ্ডন করে বা যে ধরণের পোশাক ইহরামে পরা উচিত নয় কোন লোক যদি সেই ধরণের পোশাক পরে বা সুগন্ধি ব্যবহার করে তাহলে এই হাদীসে বর্ণিত নিয়মে তার উপর কাফফারা প্রদান করা অপরিহার্য হবে।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৯৫৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ সালামা ও মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহমান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  বায়াযা গোত্রের সালমান ইবনু সাখর আনসারী তার স্ত্রীকে রামাযান মাসের জন্য তার মায়ের পিঠের সাথে তুলনা করল (যিহার করল)। এই মাসের অর্ধেক গত হওয়ার পর এক রাতে সে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করল। তারপর সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে জানালো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ একটি গোলাম আযাদ কর। সে বলল, এটা করার সামর্থ্য আমার নেই। তিনি বললেনঃ একাধারে দুই মাস রোযা রাখ। সে বলল, আমার সামর্থ্য নেই এটা করার। তিনি বললেনঃ যাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াও। সে বলল, এটা করারও আমার সামর্থ্য নেই। তখন ফারওয়া ইবনু আমর (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু  ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে এই খেজুরের ঝুড়িটা দাও যাতে ষাটজন  মিসকীনকে  সে খাওয়াতে পারে। আরাক এমন বড় ঝুড়িকে বলা হয় যাহাতে ১৫ অথবা ১৬ সা'খেজুর ধরে। 


সহীহ্‌, ইবনু মাজাহ- (২০৬২)  


ফুটনোট:   আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীস অনুযায়ী যিহারের কাফ্‌ফারা নির্ধারণের ব্যাপারে আলিমগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সালামানকে সালামা আল-বায়ামীও বলা হয়।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১২০০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! আমার সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাতে আমার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে : “তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয়, বা মাথায় ক্লেশ থাকে, তবে রোযা অথবা দান-খাইরাত অথবা কুরবানীর দ্বারা তারা ফিদিয়া দিবে” (সূরা আল –বাক্বারাহ ১৯৬)। কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে হুদাইবিয়াতে ইহ্‌রাম অবস্থায় ছিলাম। মুশরিকরা আমাদেরকে (হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় যেতে) বাধা দিল। আমার মাথায় বাবরী চুল ছিল। উকুন আমার মুখমন্ডলে পতিত হচ্ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুল মুন্ডন করে ফেল। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, এক্ষেত্রে তিনটি রোযা রাখতে হবে অথবা খাদ্য দান করতে হবে ছয়জন  মিসকীনকে  অথবা এক বা একাধিক ছাগল যবেহ করতে হবে। 


সহীহ : বুখারী (৪৫১৭), মুসলিম, অনুরূপ হাদীস পূর্বে (৯৫৩) নং উল্লেখ হয়েছে।  


ফুটনোট:   ‘আলী ইবনু হুজর-হুশাইম হতে, তিনি আশ’আস ইবনু সাওওয়ার হতে, তিনি শা’বী হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মা’কিল হতে, তিনি কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ‘আবদুর রহমান ইবনুল আসবাহানী (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফালের সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৯৭৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার  নিকট আসলেন। আমি তখন ডেকচির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম। তখন আমার কপালের উপর অথবা বলেছেন আমার চোখের ভ্রুর উপর দিয়ে উকুন ঝরে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মাথা কামিয়ে ফেল এবং তার পরিবর্তে একটি পশু যবেহ কর অথবা তিন দিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  আহার করাও। বর্ণনাকারী আইয়ূব বলেন, তিনি কোন বিষয়টি প্রথমে বলেছেন তা আমি অবগত নই। 


সহীহ : দেখুন পূর্বের হাদীস।  


ফুটনোট:   আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৯৭৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালামাহ্ ইবনু সাখ্‌র আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি এমন এক পুরুষ, যাকে এত যৌনশক্তি দেয়া হয়েছে যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। রমাযান মাস এলে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যিহার করি, যাতে রমাযান মাসটা অতিক্রম হয়ে যায় এবং রাতে সহবাসের আশংকা হতে বেঁচে থাকতে পারি। একই ধারাবাহিকতায় আমার দিনগুলো (সঙ্গমহীন) অতিক্রম হবে এবং তাকে আমি ত্যাগও করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন সে রাতের বেলা আমার সেবা করছিল, হঠাৎ তার কোন জিনিস আমার সম্মুখে উন্মুক্ত হয়ে গেলে আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়ি (সঙ্গম করি)। সকালে উপনিত হয়ে আমি আমার গোত্রের লোকের কাছে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আমার বিষয়টি জানাই। আমি বললাম, আমাকে নিয়ে তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চলো এবং আমার বিষয়টি তাঁকে জানাই। তারা বলল, না আল্লাহ্‌র ক্বসম! আমরা তা করতে অপারগ। আমাদের মনে হচ্ছে যে, আমাদের প্রসঙ্গে কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ হবে কিংবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করবেন আমাদের আমাদের জন্য যা লজ্জার বিষয় হয়ে থাকবে। বরং তুমি একাই যাও এবং যা তোমার উপযুক্ত মনে হয় তাই কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে আমার বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি আবার বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। তিনি বললেনঃ এ কাজ তুমি করেছ! আমি বললাম, এমন কাজ আমি করেছি। আমি উপস্থিত। অতএব আল্লাহ্‌র বিধান আমার উপর কার্যকর করুন, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তিনি বললেনঃ একটি দাসী মুক্ত কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আমার ঘাড়ের উপরাংশে আমার হাত দিয়ে আঘাত করে বললাম, না সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে যিনি সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! তাকে ছাড়া আমি আর কিছুর মালিক নই। তিনি বললেনঃ তাহলে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোযা রাখ। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যে বিপদ আমার উপর এসেছে তা তো এ রোযার কারণেই। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন দরিদ্রকে আহার করাও। আমি বললাম, সেই সত্তার ক্বসম, আপনাকে সত্যসহ যিনি পাঠিয়েছেন! আজ রাতে আমরাই অভুক্ত ছিলাম, আমাদের কাছে রাতের খাবার ছিল না। তিনি বললেনঃ যে লোক যুরাইক্ব গোত্রের যাকাত আদায় করে, তার কাছে তুমি যাও এবং তাকে বল, তাহলে তোমাকে সে কিছু দিবে। তার এক ওয়াসাক এর মাধ্যমে তুমি ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করাবে এবং বাকি যা থাকে তা তুমি ও তোমার পরিজনের জন্য খরচ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমি আমার গোত্রের কাছে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং তাদেরকে বললাম, তোমাদের কাছে আমি পেয়েছি সংকীর্ণতা ও কুপরামর্শ, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেয়েছি প্রশস্ততা ও প্রাচুর্য। তিনি তোমাদের যাকাত আমাকে দান করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব তা আমার কাছে তোমরা অর্পন কর। অতএব তারা আমার কাছে তা অর্পণ করে।


সহীহঃ ইবনু মাজাহ (হাঃ ২০৬২)।  


ফুটনোট:   আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ বলেন, আমার মতে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার সালামাহ্‌ ইবনু সাখ্‌র-এর কোন বর্ণনা শুনেননি। তিনি আরো বলেন, তার নাম সালামাহ্‌ ইবনু সাখ্‌র, তবে সালমান ইবনু সাখ্‌র নামেও পরিচিত। এ অনুচ্ছেদে সা'লাবাহ্‌ (রাঃ)-এর কন্যা ও আওস ইবনুস সামিত (রাঃ)-এর সহধর্মিণী খাওলাহ্ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩২৯৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে  বললো, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বলেন, কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো। সে বললো, আমি রমযানের রোযারত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি একটি গোলাম আযাদ করো। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন, তাহলে একাধারে দু’মাস সিয়াম রাখো। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, তাহলে ষাটজন  মিসকীনকে  আহার করাও। সে বললো, আমার সেই সামর্থ্যও নেই। তিনি বলেন, তুমি বসো। অতএব সে বসে থাকলো। ইতোমধ্যে এক ঝুড়ি খেজুর এলো। তিনি বলেন, যাও এটা দান করে দাও। সে বললো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! মদীনার দু’ কংকরময় প্রান্তরের মাঝে আমাদের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। তিনি বললেন, যাও, এগুলো তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও। [১৬৭১]  

          

[উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের একটি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ]


১/১৬৭১(১). আবূ হুরায়রা (রাঃ), রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার পরিবর্তে একদিন সিয়াম রাখো। [১৬৭১]

 

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।  


ফুটনোট:   [১৬৭১] সহীহুল বুখারী ১৯৩৬, ১৯৩৭, ২৬০০, ৫৩৬৮, ৬০৮৭, ৬১৬৪, ৬৭০৯, ৬৭১০, ৬৭১১, ৬৮২২, মুসলিম ১১১১, তিরমিযী ৭২৪, আবূ দাউদ ২৩৯০, ২৩৯২, আহমাদ ৬৯০৫, ৭২৪৮, ৭৭২৭, ১০৩০৯, মুয়াত্তা মালেক ৬৬০, দারেমী ১৭১৬, ইরওয়াহ ৯৩৯, সহীহ আবী দাউদ ২০৬৮-২০৭৩, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল জাব্বার বিন উমার সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা'দ সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একাধিক মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-যাহলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৯৫, ১৬/৩৮৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু আবদুল জাব্বার বিন উমার এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৫১৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে ৬৬ টি অধিক দুর্বল, ১৫৪, টি দুর্বল, ১৪১ টি হাসান, ১৫৩ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৯৩৫, ১৯৩৬, ১৯৩৭, ২৬০০, ৫৩৬৮, ৬০৮৭, ৬১৬৪, ৬৭০৯, ৬৭১০, ৬৭১১, ৬৮২২, মুসলিম ১১১২, ১১১৩, তিরমিযি ১১৯৮, ১১৯৯, ৩২৯৯, সুনান আবু দাউদ ২২১৩, ২২১৪, ২২১৭, ২২১৮, ২২২১, ২২২২, ২৩৯০, ২৩৯৪, দারিমী ১৭১৬, ১৭১৮, ২২৭৩ ইত্যাদি।  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৬৭১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  উকুন আমাকে কষ্ট দিতে থাকলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে মাথা কামানোর নির্দেশ দেন এবং তিনি দিন রোযা রাখতে অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  আহার করাতে বলেন। তিনি জানতেন যে আমার নিকট কোরবানী করার মত কিছু ছিলো না। [৩০৮০]


তাহকীক আলবানীঃ সহীহ  


ফুটনোট:   [৩০৮০] ইবনু মাজাহ ৩০৮০, সহীহুল বুখারী ১৮১৪, ১৮১৫, ১৮১৬, ১৮১৮, ৪১৫৯, ৪১৯০, ৪১৯১, ৪৫১৭, ৫৬৬৫, ৫৭০৩, ৬৭০৮, মুসলিম ১২০১, তিরমিযী ৯৫৩, ২৯৭৩, ২৯৭৪, নাসায়ী ২৮৫১, ২৮৫২, আবূ দাউদ ১৮৫৬, ১৮৫৭, ১৮৫৮, ১৮৫৯, ১৮৬০, আহমাদ ১৭৬৩৫, ১৭৬৪৩, ১৭৬৫৪, ১৭৬৬৫, মুয়াত্তা মালেক ৯৫৪, ৯৫৫, ৯৫৬, ইরওয়া ৪/২৩২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

উক্ত হাদিসের রাবী উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল-আজলী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩১৭, ২/৩৪৭ নং পৃষ্ঠা)  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩০৮০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ


  আমি মসজিদের মধ্যে কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। আমি তার নিকট নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (অনুবাদ) : “তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদ্‌য়া দিবে” (সূরা বাকারাঃ ১৯৬) কা’ব (রাঃ) বলেন, এ আয়াত আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছিল। আমার মাথার অসুখ ছিল। আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। উকুন আমার মুখমণ্ডলে ছড়িয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে যে কষ্ট ভোগ করতে দেখছি তেমনটি আর কখনও দেখিনি। তুমি কি একট বকরী সংগ্রহ করতে পারবে? আমি বললাম, না। রাবী বলেন, তখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “তবে রোযা অথবা সদাকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে ফিদ্‌য়া দিবে”। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তিন দিন রোযা রাখতে হবে, আর সদাকার ক্ষেত্রে ছয়জন  মিসকীনকে  খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে, মাথাপিছা অর্ধ সা’ (এক কেজি দু’শ পঞ্চাশ গ্রাম) এবং কোরবানীর ক্ষেত্রে একটি বকরী। [৩০৭৯]  


ফুটনোট:   [৩০৭৯] ইবনু মাজাহ ৩০৮০, সহীহুল বুখারী ১৮১৪, ১৮১৫, ১৮১৬, ১৮১৮, ৪১৫৯, ৪১৯০, ৪১৯১, ৪৫১৭, ৫৬৬৫, ৫৭০৩, ৬৭০৮, মুসলিম ১২০১, তিরমিযী ৯৫৩, ২৯৭৩, ২৯৭৪, নাসায়ী ২৮৫১, ২৮৫২, আবূ দাউদ ১৮৫৬, ১৮৫৭, ১৮৫৮, ১৮৫৯, ১৮৬০, আহমাদ ১৭৬৩৫, ১৭৬৪৩, ১৭৬৫৪, ১৭৬৬৫, মুয়াত্তা মালেক ৯৫৪, ৯৫৫, ৯৫৬, ইরওয়া ৪/২৩১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩০৭৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা’ব ইবনু ‘উজরা (রা) থেকে বর্ণিতঃ


  রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, মনে হয় উকুন তাকে খুবই কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম  হ্যাঁ, ইয়া রসূলুল্লাহ্! তিনি তখন বললেন, চুল কামায়ে ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয়জন  মিসকীনকে  আহার করাও বা একটি বকরী কুরবানী দিয়ে দিও। (বুখারী ১৮১৪)  


মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ৯৩৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এক দ্বীনার (স্বর্ণমুদ্রা) তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, এক দ্বীনার ক্রীতদাস মুক্ত করার কাজে ব্যয় কর, এক দ্বীনার কোন  মিসকীনকে  সদকাহ কর এবং এক দ্বীনার তুমি পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় কর। এ সবের মধ্যে ঐ দ্বীনারের বেশী নেকী রয়েছে যেটি তুমি পরিবার-পরিজনের উপর ব্যয় করবে।’’ (মুসলিম)  [১]  


ফুটনোট:   [১] মুসলিম ৯৯৫, আহমাদ ৯৭৬৯, ৯৮১৮  


রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ২৯৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমান ইবনু আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘--- মিসকীনকে  সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু’টি সওয়াব হয়ঃ সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।’’ (তিরমিযী, উল্লেখ্য যে হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ নয় বলে উল্লেখ করা হয়নি।)  [১]  


ফুটনোট:   [১] তিরমিযী ৬৫৮, নাসায়ী ২৫৮২, আবূ দাউদ ২৩৫৫, ইবনু মাজাহ ১৬৯৯, ১৮৪৪, আহমাদ ১৫৭৯২, ১৫৭৯৮, ১৭৪১৪, ২৭৭৪৮, ১৭৪৩০, দারেমী ১৬৮০, ১৭০১  


রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ৩৩৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, অতি বৃদ্ধের জন্য সওম পালনের ব্যাপারে এই অবকাশ দেয়া হয়েছে যে, সে প্রতি সওমের বদলে একজন  মিসকীনকে  ইফতার করাবে ও খাওয়াবে। তার উপর কাযাও নেই। দারাকুৎনী ও হাকিম একে সহীহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [৭২১]  


ফুটনোট:   [৭২১] হাদীসটি সহীহ। দারাকুতনী ২/২০৫/৬, হাকিম ১/৪৪০। ইমাম দারাকুতনী বলেনঃ এর ইসনাদ সহীহ। ইমাম হাকিম বলেনঃ হাদীসটি বুখারীর শর্তানুপাতে সহীহ।  


বুলুগুল মারাম, হাদিস নং ৬৭৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালামাহ ইবনু আকওয়া‘ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


    তিনি বলেন,   وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ   এ আয়াত অবতীর্ণ হল- এবং যারা সওম পালনের সামর্থ্য রাখে তারা একজন  মিসকীনকে  ফিদ্য়াহ স্বরূপ আহার্য দান করবে- তখন যে ইচ্ছে সওম ভঙ্গ করত এবং তার পরিবর্তে ফিদয়া প্রদান করত। এরপর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং পূর্বোক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে দেয়। (বুখারী পর্ব ৬৫ : /২৬ হাঃ ৪৫০৭,  মুসলিম  ১৩/২৫, হাঃ ১১৪৫)    


আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ৭০২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা‘ব ইব্‌নু ‘উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বোধ হয় তোমার এই পোকাগুলো (উকুন) তোমাকে খুব তাকলীফ দিচ্ছে? তিনি বললেন, হাঁ, ইয়া আল্লাহর রসূল! এরপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি মাথা মুণ্ডন করে ফেল এবং তিন দিন সিয়াম পালন কর অথবা ছয়জন  মিসকীনকে  আহার করাও কিংবা একটা বকরী কুরবানী কর। (বুখারী পর্ব ২৭ : /৫ হাঃ ১৮১৪,  মুসলিম ১৫/১০, হাঃ ১২০১)  


আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ৭৪৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমান বিন আমের য্বাব্বী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ মিসকীনকে  দান করলে একটি দান করার সওয়াব হয়। কিন্তু আত্মীয়কে দান করলে দুটি সওয়াব হয়; দান করার সওয়াব এবং আত্মীয়তা বজায় রাখার সওয়াব।” (তিরমিযী ৬৫৮, নাসাঈ ২৫৮২, ইবনে মাজাহ ১৮৪৪, ইবনে খুযাইমাহ ২৩৮৫, ইবনে হিব্বান ৩৩৪৪, হাকেম ১৪৭৬)  


হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ৯৭৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংসগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।’ তিনি বললেন, “কোন জিনিস তোমাকে ধ্বংসগ্রস্ত করে ফেলল?” লোকটি বলল, ‘আমি সিয়াম অবস্থায় আমার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে ফেলেছি।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, “তুমি কি একটি ক্রীতদাস মুক্ত করতে পারবে?” লোকটি বলল, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “তাহলে কি তুমি একটানা দুই মাস সিয়াম রাখতে পারবে?” সে বলল, ‘জী না।’ তিনি বললেন, “তাহলে কি তুমি ষাট জন  মিসকীনকে  খাদ্যদান করতে পারবে?” লোকটি বলল, ‘জী  না।’ কিছুক্ষণ পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ঝুড়ি খেজুর এনে বললেন, “এগুলি নিয়ে দান করে দাও।” লোকটি বলল, ‘আমার চেয়ে বেশী গরীব মানুষ কে হে আল্লাহর রসূল? আল্লাহর কসম! (মদীনার) দুই হার্রার মাঝে আমার পরিবার থেকে বেশী গরীব অন্য কোন পরিবার নেই!’ এ কথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেসে ফেললেন এবং তাতে তাঁর ছেদক দাঁত দেখা গেল। অতঃপর বললেন, “তোমার পরিবারকেই তা খেতে দাও!” (বুখারী ১৯৩৬-১৯৩৭, মুসলিম ২৬৫১)  


হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১০৭১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ


  আমরাহর মা রমযানের সিয়াম বাকী রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি?’ আয়েশা (রাঃ) বললেন, ‘না। বরং তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি  মিসকীনকে  অর্ধ সা’ (প্রায় ১কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।’ (ত্বাহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৪, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০পৃঃ)  


হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১০৮৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


সালমান ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “--- মিসকীনকে  সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু’টি সওয়াব হয় ঃ সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।” (তিরমিযী ৬৫৮, উল্লেখ্য যে, হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ নয় বলে উল্লেখ করা হয়নি।)  


হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৭৫০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ মালিক আল আশ্‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : জান্নাতে এমন সব কক্ষ আছে যার বাইরের জিনিস ভেতর থেকে আর ভেতরের জিনিস বাইরে থেকে দেখা যায়। আর এ বালাখানা আল্লাহ তা’আলা ঐসব ব্যক্তির জন্যে তৈরি করে রেখেছেন, যারা অন্য ব্যক্তির সঙ্গে নরম কথা বলে। (গরীব- মিসকীনকে ) খাবার দেয়। প্রায়ই (নাফ্‌ল) সওম পালন করে। রাত্রে এমন সময় (তাহাজ্জুদের) সলাত আদায় করে যখন অনেক মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। (বায়হাক্বীর শু’আবুল ঈমান) [১]  


ফুটনোট:   [১] হাসান লিগায়রিহী : ইবনু হিব্বান ৫০৯, মুসতাদরাক লিল হাকিম ২৭০, শু‘আবুল ঈমান ২৮২৫, সহীহ আত্ তারগীব ৬১৮, সহীহ আল জামি‘ ২১২৩।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১২৩২

হাদিসের মান: হাসান লিগাইরিহি


ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমকে অযথা কথা, খারাপ আলাপ-আলোচনা থেকে পবিত্র করার ও গরীব  মিসকীনকে  খাদ্যবস্তু দেবার উদ্দেশ্যে সদাক্বায়ে ফিত্বর ফার্‌য করে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ) [১]  


ফুটনোট:   [১] হাসান : আবূ দাঊদ ১৬০৯, ইবনু মাজাহ্ ১৮২৭, দারাকুত্বনী ২০৬৭, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৮৮, ইরওয়া ৮৪৩, সহীহ আত্ তারগীব ১০৮৫, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৩৫৭০।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৮১৮

হাদিসের মান: হাসান হাদিস


সালমান ইবনু ‘আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ  মিসকীনকে  সদাক্বাহ্ করা এক প্রকার, আর নিকটাত্মীয়ের কাউকে সদাক্বাহ্ দেয়া দু’ প্রকার সাওয়াবের কারণ। এক রকম সাওয়ার নিকটাত্মীয়ের হাক্ব আদায় এবং অন্য রকম সাওয়াব সদাক্বাহ‌্ করার জন্য। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী) [১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৬৫৮, নাসায়ী ২৫৮২, ইবনু মাজাহ্ ১৮৪৪, আহমাদ ১৬২৩, দারিমী ১৭২২, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৮৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৭৬, ইরওয়া ৮৮৩, সহীহ আত্ তারগীব ৮৯২, সহীহ আল জামে আস্ সগীর ৩৮৫৮।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৯৩৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবুল লাহম (রাঃ) এর আযাদ করা গোলাম ‘উমায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আমার মুনিব আমাকে গোশত টুকরা করার হুকুম দিলেন। এমন সময় একজন মিসকীন এলো। আমি তাকে ওখান থেকে কিছু গোশত খেতে দিলাম। আমার মুনিব এ কথা জানতে পারলেন। তিনি আমাকে মারলেন। আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এলাম। এ ঘটনা তাঁর কাছে বললাম। তিনি আমার মুনিবকে ডেকে পাঠালেন।

তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ‘উমায়রকে মেরেছ কেন? তিনি বললেন, সে আমার অনুমতি ছাড়া ( মিসকীনকে ) খাবার দিয়ে দেয়। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর সাওয়াব তোমাদের দু’জনেরই হত। অন্য বর্ণনায় আছে, ‘উমায়র বলেছেন, আমি গোলাম। তাই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার মুনিবের ধন সম্পদ থেকে সাদাকাহ করতে পারব কিনা? তিনি বললেন, হ্যাঁ, পারবে। এর সাওয়াব তোমরা দুজন অর্ধেক অর্ধেক করে পাবে। (মুসলিম)

[১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : মুসলিম ১০২৫।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৯৫৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমরা এক সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসেছিলাম। হঠাৎ করে এক ব্যক্তি (সালামাহ্ ইবনু সাখর আল বায়াযী) তাঁর কাছে হাযির হলো ও বলতে লাগল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি! তিনি বললেন, তোমার কি হয়েছে? সে বলল, আমি সওমরত অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে বসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি কোন গোলাম আছে যাকে তুমি মুক্ত করে দিতে পার? লোকটি বলল, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি একাধারে দু’ মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি ষাটজন  মিসকীনকে  খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি বসো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এখানে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। ঠিক এ সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি ‘আরাক’ নিয়ে আসা হলো। এতে ছিল খেজুর।


‘আরাক’ একটি বড় ভাণ্ড বা গাঁইটকে বলা হয় (যা খেজুরের পাতা দিয়ে তৈরি; এতে ষাট থেকে আশি সের পর্যন্ত খেজুর ধরে)। এটা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বলল, এই তো আমি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটি নিয়ে নাও। এগুলো সদাকাহ্ করে দাও। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি এগুলো আমার চেয়েও গরীবকে দান করব? আল্লাহর কসম, মাদীনার উভয় প্রান্তে এমন কোন পরিবার নেই, যারা আমার পরিবারের চেয়ে বেশী অভাবী। মাদীনার উভয় প্রান্ত বলতে সে দু’টি কঙ্করময় এলাকা বুঝিয়েছে। (তার কথা শুনে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে ফেললেন। এমনকি তাঁর সামনের পাটির দাঁতগুলো দেখা গেল। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আচ্ছা এ খেজুরগুলো তোমার পরিবার-পরিজনকে খাওয়াও। (বুখারী, মুসলিম)[১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : বুখারী ১৯৩৬, ৬৭০৯, ৬৭১১, মুসলিম ১১১১, আবূ দাঊদ ২৩৯০, তিরমিযী ৭২৪, ইবনু মাজাহ ১৬৭১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৯৭৮৬, আহমাদ ৭২৯০, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৯৪৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮০৪০, ইরওয়া ৯৩৯।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২০০৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় পৌঁছার আগে হুদায়বিয়ায় তাঁর (কা‘ব-এর) নিকট দিয়ে গেলেন। তখন তিনি (কা‘ব) ইহরাম অবস্থায় একটি হাঁড়ির তলায় আগুন ধরাচ্ছে, আর তার মুখমণ্ডল বেয়ে উকুন ঝরছিল। এটা দেখে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার (গায়ের) পোকা কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি (কা‘ব) বললেন, জি, হ্যাঁ। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তুমি তোমার মাথা মুণ্ডন করে ফেলো এবং ছয়জন  মিসকীনকে  এক ‘ফারাক্ব’ খাবার খাওয়াও কিংবা তিনদিন সিয়াম পালন কর অথবা একটি পশু কুরবানী কর। বর্ণনাকারী বলেন, এক ‘ফারাক্ব’ তিন সা'-এর সমতুল্য। (বুখারী, মুসলিম)[১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : মুসলিম ১২০১, তিরমিযী ৯৫৩, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ২৩৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৭১৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৯৭৯।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২৬৮৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


Comments

Popular posts from this blog

আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত

জ্বর হওয়ার ফজিলত

স্ত্রীর হক