জ্বর হওয়ার ফজিলত


 ‎


আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললামঃ নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাথেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়। [৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬১, ৫৬৬৭; মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩১)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৪৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবদুল্লাহ (রাঃ থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। তখন তিনি  জ্বর ে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু  জ্বর ে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু  জ্বর ে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। কেননা যেকোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩২)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৪৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি ভয়ানক  জ্বর ে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে দিলাম এবং বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ আমি এমন কঠিন  জ্বর ে আক্রান্ত হই, যা তোমাদের দু’জনের হয়ে থাকে। আমি বললামঃ এটা এজন্য যে, আপনার জন্য বিনিময়ও দ্বিগুণ। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ! এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট বা রোগ-ব্যাধি হলে আল্লাহ তাঁর গুনাহগুলো ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৫)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৬০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে এলাম। এরপর তাঁর শরীরে হাত বুলিয়ে দিলাম। এ সময় তিনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত ছিলেন। আমি বললামঃ আপনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত এবং এটা এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ! কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট আপতিত হলে তাত্থেকে গুনাহ্‌গুলো এমনভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে পাতা ঝরে যায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৬)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৬১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। তখন তিনি  জ্বর ে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর গায়ে আমার হাত দিলাম এবং বললামঃ আপনি কঠিন  জ্বর ে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যেমন তোমাদের দু’জনকে ভুগতে হয়। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বললেনঃ আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কোন মুসলিম কষ্ট বা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে কিংবা অন্য কোন যন্ত্রণায় পতিত হলে, আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন, যেমনভাবে বৃক্ষ তার পাতাগুলো ঝরিয়ে দেয়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৫২)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬৬৭

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  যে, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ইসলামের বায়’আত করল। তারপর সে  জ্বর ে আক্রান্ত হল। তখন সে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে আসল। তিনি আবার অস্বীকৃতি জানালেন। সে আবার তাঁর কাছে এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন সে বেরিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে।[১৮৮৩; মুসলিম ১৫/৮৮, হাঃ ১৩৮৩, আহমাদ ১৫১৩৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৬)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২০৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  যে, এক বেদুঈন এসে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের বায়’আত নিল। মাদীনায় সে  জ্বর ে আক্রান্ত হল। তখন সেই বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকার করলেন, সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে আবার এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি আবারও অস্বীকার করলেন। তখন বেদুঈন বেরিয়ে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হল হাপরের মত, যে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটাকে ধরে রাখে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১৮)  


ফুটনোট:   (১৮২) হাপর যেমন আবর্জনা দূর করে, মদীনাও তেমনি (ঐ বেদুইনের মত সকল) বেঈমানকে দূর করে দেয়।  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২১১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  যে, এক বেদুঈন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, ইসলামের উপর আমার বায়’আত নিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের উপর তার বায়’আত নিলেন। পর দিবস সে  জ্বর ে আক্রান্ত অবস্থায় এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। তিনি অস্বীকার করলেন। যখন সে চলে গেল, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনা হাপরের মত, সে তার আবর্জনাকে দূর করে দেয় এবং ভালটুকু ধরে রাখে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২৩)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২১৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট ইসলামের উপর বায়’আত নিল। এরপর সে মদীনায়  জ্বর ে আক্রান্ত হল। বেদুঈন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালেন। আবার সে এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর সে আবার এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে দিন। এবারও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালেন, বেদুঈন বেরিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মদীনা হাপরের মত। সে তার মধ্যেকার ময়লাকে দূর করে দেয় এবং ভালটুকু ধরে রাখে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮২৩)  


সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭৩২২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক বেদুঈন (গ্রাম্য লোক) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট (ইসলামে দীক্ষিত হবার) বায়’আত হল। অতঃপর বেদুঈন মাদীনায় প্রবল  জ্বর ে আক্রান্ত হল। সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়’আত প্রত্যাহার করুন। তিনি তার কথা প্রত্যাখান করলেন। সে পুনরায় তাঁর নিকট এসে বলল, আমার বায়’আত ফিরিয়ে নিন। তিনি তা অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়’আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, ইয়া মুহাম্মাদ! আমার বায়’য়াত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকার করলেন। অতঃপর বেদুঈন (মাদীনাহ্ থেকে) চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “মাদীনাহ্ হচ্ছে হাপর স্বরুপ, সে নিজের বুক থেকে ময়লা বহিস্কার করে দেয় এবং পবিত্র জিনিস ধুয়ে মুছে সাফ করে”। (ই.ফা. ৩২২১, ই.সে. ৩২১৮)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩২৪৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন উম্মু সায়িব কিংবা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললেন, তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, ভীষণ  জ্বর , একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন। তখন তিনি বললেন, তুমি  জ্বর কে গালমন্দ করো না। কেননা  জ্বর  আদাম সন্তানের পাপরাশি মোচন করে দেয়, যেভাবে হাঁপর লোহার মরিচিকা দূরীভূত করে। (ই.ফা. ৬৩৩৬, ই.সে. ৬৩৮৫)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৬৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে আসলাম। তখন তিনি  জ্বর াক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁকে আমার হাতে স্পর্শ করে বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি তো ভীষণভাবে  জ্বর াক্রান্ত। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, আমি এ পরিমাণ  জ্বর ে ভুগছি, যে পরিমাণ তোমাদের দু’জনের হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আমি বললাম, এ কারণেই আপনার জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান রয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির  জ্বর  কিংবা অন্য কোন কারণে বিপদ আপতিত হলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা এমনভাবে তার অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেন যেভাবে বৃক্ষাদি পাতা ঝরায়।


তবে যুহায়র বর্ণিত হাদীসে ‘আমি আমার হাতে তাকে স্পর্শ করি’ অংশটুকু উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ৬৩২৫, ই.সে. ৬৩৭৪)  


সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৪৫৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক বেদুঈন লোক রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের উপর বায়‘আত গ্রহণ করল। পরে সে মদীনায়  জ্বর ে আক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হল এবং বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি তা করলেন না। কিন্তু সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও তা করলেন না। এরপর সে চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মদীনা কামারের হাপরের মত, যে এর ময়লা দূর করে এবং নিখুঁতটুকু রেখে দেয়।  


সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪১৮৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  জ্বর ে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে বললেন, “তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ সেটা আমার অগ্নি, আমার গুনাহগার বান্দার উপর উহা চাপিয়ে দিয়ে থাকি, যাতে উহা তাঁর জাহান্নামের শাস্তির অংশ হয়ে যায়” অর্থাৎ পরকালের পরিবর্তে দুনিয়াতেই তাঁর শাস্তি হয়ে যায়।


সহীহ, সহীহাহ্ (২/৯৮)।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০৮৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, গুনাহর কারণে তাদের মর্যাদার ঘাটতি পূরণের কাফ্ফারা স্বরূপ তারা রাতের বেলায়  জ্বর ের আকাঙ্খা করত।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০৮৯

হাদিসের মান: সহিহ মাকতু


জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ইসলামের উপর বাই'আত হয়। মাদীনার  জ্বর ে আক্রান্ত হয়ে সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলে, আমার বাই'আত প্রত্যাহার করুন। কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন। অতএব সে চলে গেল। বেদুঈন পুনরায় এসে বলল, আমার বাই'আত প্রত্যাহার করুন। এবারও তিনি অস্বীকার করেন। ফলে বেদুঈন চলে গেল। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ মাদীনা হল কামাড়ের হাপড়ের মত, যা তার ময়লা দূর করে এবং পবিত্রতাকে খাঁটি করে।


সহীহঃ সহিহাহ্‌ (২১৭), বুখারী ও মুসলিম।  


ফুটনোট:   এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃকও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।  


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৯২০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে  জ্বর ের বিষয় উল্লিখিত হলে এক ব্যক্তি  জ্বর কে গালি দেয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ  জ্বর কে গালি দিও না। কেননা তা পাপসমূহ দূর করে, যেমন আগুন লোহার ময়লা দূর করে। 

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৬৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে  জ্বর াক্রান্ত এক রোগীকে দেখতে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোগীকে বললেনঃ সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ্ বলেন, এটা আমার আগুন যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার উপর চাপিয়ে দেই, যাতে আখেরাতে তাঁর প্রাপ্য আগুনের বিকল্প হয়ে যায়। 


তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৭০

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট গেলাম, তখন তিনি ভীষণ  জ্বর ে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর উপর আমার হাত রাখলে তাঁর গায়ের চাদরের উপর থেকেই তাঁর দেহের প্রচণ্ড তাপ অনুভব করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কত তীব্র  জ্বর  আপনার। তিনি বলেনঃ আমাদের(নবী-রাসুলগণের) অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। আমাদের উপর দ্বিগুণ বিপদ আসে এবং দ্বিগুণ পুরস্কারও দেয়া হয়। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! কার উপর সর্বাধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেন, নবীগণের উপর। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তারপর কার উপর? তিনি বলেন, তারপর নেককার বান্দাদের উপর। তাদের কেউ এতটা দারিদ্র পীড়িত হয় যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে তাঁর পরিধানের কম্বলটি ছাড়া কিছুই থাকে না। তাদের কেউ বিপদে এত শান্ত ও উৎফুল্ল থাকে, যেমন তোমাদের কেউ ধন-সম্পদ প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়ে থাকে। [৩৩৫৬]  


ফুটনোট:   [৩৩৫৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।সহীহাহ ১৪৪।  


সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪০২৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইব্নু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিতঃ


  এক গ্রাম্য ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার ইসলাম গ্রহণের বায়‘আত করল, মদীনায় তার  জ্বর  আসতে লাগল। সে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলতে লাগল, হে আল্লাহ্‌র নবী! আপনি আমার বায়‘আত ভঙ্গ করে দিন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করলেন। সে পুনরায় এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র নবী, আমার বায়‘আত ভঙ্গ করে দিন। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকার করা সত্ত্বেও সে মদীনা হতে বের হয়ে পড়ল। তখন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মদীনা লোহার ভাট্টির [১] মতো, উহা ময়লা বাহির করে খাঁটি সোনা বানিয়ে দেয়। (বুখারী ১৮৮৩, মুসলিম ১৩৮৩)  


ফুটনোট:   [১] মদীনায় থাকবার বায়‘আত করেছিল। সে যে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এমন নয়, মদীনাও মন্দ লোকদেরকে মদীনায় থাকতে দেয় না এবং ভাল লোকদেরকে যেতে দেয় না, সেই জন্য মদীনাকে লোহার ভাট্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।  


মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ১৫৭৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি  জ্বর ে ভুগছিলেন। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার যে প্রচণ্ড  জ্বর !’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ! তোমাদের দু’জনের সমান আমার  জ্বর  আসে।’’ আমি বললাম, ‘তার জন্যই কি আপনার পুরস্কারও দ্বিগুণ?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ! ব্যাপার তা-ই। (অনুরূপ) যে কোন মুসলিমকে কোন কষ্ট পৌঁছে, কাঁটা লাগে অথবা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তা‘আলা এর কারণে তার পাপসমূহকে মোচন করে দেন এবং তার পাপসমূহকে এভাবে ঝরিয়ে দেওয়া হয়; যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।’’[১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহুল বুখারী ৫৬৪৮, ৫৬৪৭, ৫৬৬০, ৫৬৬১, ৫৬৬৭ মুসলিম ২৫৭১, আহমাদ ৩৬১১, ৪১৯৩, ৪৩৩৩, দারেমী ২৭৭১  


রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ৩৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) উম্মে সায়েব কিম্বা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ ক’রে বললেন,‘‘হে উম্মে সায়েব কিম্বা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কী হয়েছে যে, থরথর করে কাঁপছ?’’ সে বলল, ‘ জ্বর  হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, ‘‘ জ্বর কে গালি দিও না।  জ্বর  তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর ক’রে ফেলে।’’  


ফুটনোট:   (মুসলিম ২৫৭৫, তিরমিযী ২২৫০)  


রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ১৭৩৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  এক বেদুঈন এসে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে ইসলামের বায়‘আত গ্রহণ করল। মাদীনায় সে  জ্বর ে আক্রান্ত হল। তখন সেই বেদুঈন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালেন। সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি এবারও অস্বীকৃতি জানালেন। সে পুনরায় এসে বলল, আমার বায়‘আত প্রত্যাহার করুন। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। তখন বেদুঈন বেরিয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ মাদীনাহ হল কামারের হাপরের ন্যায়, যে তার মধ্যকার আবর্জনাকে বিদূরিত করে এবং খাঁটিটুকু ধরে রাখে। (বুখারী পর্ব ৯৩/৪৭ হাঃ ৭২১১, মুসলিম পর্ব ১৫/৮৮ হাঃ ১৩৮৩)  


আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ৮৭৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি  জ্বর ে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি তো কঠিন  জ্বর ে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু  জ্বর ে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু  জ্বর ে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ ব্যাপারটি এমনই। কেননা যে কোন মুসলিম মুসীবতে আক্রান্ত হয়, তা একটা কাঁটা হোক কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেভাবে গাছ থেকে পাতাগুলো ঝরে যায়। (বুখারী পর্ব ৭৫ অধ্যায় ৩ হাদীস নং ৫৬৪৮; মুসলিম ৪৫ অধ্যায় ১৪ হাঃ ২৫৭১)  


আল লু'লু ওয়াল মারজান, হাদিস নং ১৬৬২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (একবার) উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ ক’রে বললেন,“হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কী হয়েছে যে, থ্‌রথ্‌র করে কাঁপছ?” সে বলল, ‘ জ্বর  হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, “ জ্বর কে গালি দিয়ো না।  জ্বর  তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর ক’রে ফেলে।” (মুসলিম ৬৭৩৫)  


হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১২৩১

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। তিনি সে সময়  জ্বর ে ভুগছিলেন। আমি আমার হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার তো বেশ  জ্বর । জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তোমাদের দু’জনে যা ভোগ করে আমি তা ভুগছি। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এর কারণ, আপনার জন্য দু’গুণ পুরস্কার রয়েছে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ কোন মুসলিমের প্রতি যে কোন কষ্ট পৌঁছে থাক না কেন চাই তা রোগ হোক বা অপর কিছু হোক আল্লাহ তা’আলা তা দ্বারা তার গুনাহসমূহ ঝেড়ে দেন যেভাবে গাছ তার পাতা ঝাড়ে। [১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : বুখারী ৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬৭, মুসলিম ২৫৭১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮০০, আহমাদ ৩৬১৮, দারিমী ২৮১৩, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৬১, ইবনু হিব্বান ২৯৩৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৪১৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৩১, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৩২, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৫৭০৩।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৫৩৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু সায়িব (রাঃ) -এর কাছে গেলেন। তাঁকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? উম্মু সায়িব (রাঃ) বলল, আমার  জ্বর  বেড়েছে। আল্লাহ এর ভাল না করুন। তার কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,  জ্বর কে গালি দিও না। কারণ  জ্বর  বানী আদামের গুনাহগুলো এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাপর লোহার মরিচ দূর করে। [১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : মুসলিম ২৫৭৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬১, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৭১৫, সহীহ আত্ তারগীব ৩৪৩৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৭৩২১।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৫৪৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে একবার  জ্বর  সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। এ সময় এক লোক  জ্বর কে গালি দিলো। এ কথা শুনে আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন,  জ্বর কে গালি দিও না। কারণ  জ্বর  গুনাহ দূর করে যেভাবে (কামারের) হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়। [১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৩৪৬৯, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১০৮১০।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১৫৮৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি বলেন, এক বেদুঈন এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়‘আত করলো। অতঃপর মাদীনায় সে (বেদুঈন)  জ্বর ে পতিত হল। সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্বীকার করলেন। আবারও সে এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। এবারও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আবারও সে এসে বললো, আমার বায়‘আত বাতিল করে দিন। এবারও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন জানালেন। এরপর বেদুঈন মাদীনাহ্ ছেড়ে চলে গেলো। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাদীনাহ্ হচ্ছে হাঁপরের মতো। যে এর খাদকে দূর করে দেয়, আর এর উত্তমটাকে খাঁটি করে। (বুখারী, মুসলিম)[১]  


ফুটনোট:   [১] সহীহ : বুখারী ৭২০৯, মুসলিম ১৩৮৩, নাসায়ী ৪১৮৫, তিরমিযী ৩৯২০, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৩০৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৭৩২।  


মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ২৭৩৯

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  আমার কাছে  জ্বর ের চেয়ে প্রিয়তর কোন রোগ নাই। তা আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ এর বিনিময়ে প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করন (ইবনে আবু শায় বাযযার)।  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫০৫

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিতঃ


  একদা  জ্বর  নবী (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আপনি আমাকে আপনার একান্ত প্রিয়জনদের কাছে প্রেরণ করুন। তিনি তাকে আনসারদের বসতিতে পাঠান। তা তাদেরকে ছয় দিন ছয় রাত আক্রান্ত রাখে এবং মারাত্মক পর্যায়ে পৌছে। নবী (সাঃ) তাদের বসতিতে এলে তারা তাঁর নিকট এই ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তাই নবী (সাঃ) তাদের বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া করলেন। তিনি ফিরে এলে এক আনসার মহিলা তার অনুসরণ করেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর শপথ! অবশ্যই আমি একজন আনসার মহিলা এবং আমার পিতাও একজন আনসার। অতএব আপনি আনসারদের জন্য যেরূপ দোয়া করে এসেছেন, আমার জন্যও অনুরূপ দোয়া করুন। তিনি বলেনঃ তুমি কি চাও? তুমি চাইলে আমি তোমার রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে পারি। আর যদি তুমি চাও তবে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তোমার জন্য হবে জান্নাত। সে বললো, বরং আমি ধৈর্য ধারণ করবো, তবুও জান্নাত প্রাপ্তিকে বিঘ্নিত করবো না।  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫০৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি  জ্বর ে আক্রান্ত ছিলেন এবং তাঁর শরীরে একটি চাদর জড়ানো ছিল। আবু সাঈদ (রাঃ) তার দেহে হাত রাখলেন এবং চাদরের উপড় দিয়েই উত্তাপ অনুভব করলেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার শরীরে কি ভীষণ  জ্বর । তিনি বলেনঃ আমাদের এরূপ হয়ে থাকে। আমাদের উপর কঠিন বিপদ আসে এবং আমাদের দ্বিগুণ সওয়াব দেয়া হয়। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন মানুষের উপর অধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেনঃ নবী-রাসূলগণের উপর, অতঃপর সৎকর্মশীলদের উপর। তাদের কেউ দারিদ্র্যের পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, এমনকি একটি জুব্বা ছাড়া পরার মত কিছুই তাঁর ছিলো না। কেউ উকুনের বিপদে পতিত হয়েছেন। শেষে তা তাঁকে হত্যা করে। নিঃসন্দেহে তোমাদের মধ্যকার কেউ পুরস্কার লাভে যতো খুশি হয়, তাদের কেউ বিপদে পতিত হলে ততোধিক খুশি হতেন (ইবনে মাজাহ, মুশকিলুল আছার)।  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫১২

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক রুগ্ন বেদুইনকে দেখতে গেলেন। তিনি বলেনঃ কিছু হবে না। আল্লাহর মর্জি সেরে যাবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, বেদুইন বললো, তা তো টগবগে  জ্বর । তা এই থুড়থুড়ে বুড়োকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। তিনি বলেনঃ তা তো আরো উত্তম (বুখারী)।  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫১৬

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


জাবের (র) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাঃ) উম্মু সাইবের বাড়িতে গেলেন। তিনি  জ্বর ের প্রকোপে কাঁপছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কি হয়েছে? তিনি বলেন,  জ্বর । আল্লাহ  জ্বর ের সর্বনাশ

করুন। নবী (সাঃ) বলেনঃ থামো,  জ্বর কে গালি দিও না। কেননা তা মুমিন বান্দার গুনাহসমূহ দূরীভূত করে, যেমন হাঁপড় লোহার মরিচ দূর করে (মুসলিম, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু আওয়া নাসাঈ)।  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫১৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  নবী (সাঃ) এক রুগ্ন বেদুইনকে দেখতে গেলেন। রাবী বলেন, নবী (সাঃ) কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেলে বলতেনঃ ক্ষতি হবে নাসাঈ, ইনশাআল্লাহ পাক-পবিত্র হয়ে যাবে। সে বললো, তা কি পবিত্র? কখনো নয়, বরং তা তো এক প্রবীণ বৃদ্ধের উপর আপতিত টগবগে  জ্বর । তা তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে। নবী (সাঃ) বলেনঃ তা তো আরো উত্তম। (বুখারী)  


আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৫২৮

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


  রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে বলেনঃ তিনি এক রোগীকে দেখতে যান, যে  জ্বর ের কারণে অসুস্থ ছিল, -আবু হুরায়রা ছিলেন তার সাথে- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেনঃ “সুসংবাদ গ্রহণ কর, আল্লাহ বলেনঃ আমার আগুন [১] দুনিয়াতে আমি আমার মুমিন বান্দার ওপর প্রবল করি, যেন তা আখেরাতের আগুনের বিনিময় হয়ে যায়”। [আহমদ, ইব্‌ন মাজাহ ও তিরমিযি]  


ফুটনোট:   [১] অর্থাৎ  জ্বর টি হচ্ছে একটি আগুন, যার মাধ্যমে মুমিন বান্দার আখেরাতের গোনাহের বিনিময় হয়ে যায়। [সম্পাদক]  


সহিহ হাদিসে কুদসি, হাদিস নং ১৪৫

হাদিসের মান: হাসান হাদিস


Comments

Popular posts from this blog

আত্মীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত

স্ত্রীর হক